Youtube Channel Subscribe us

কাস্ট অঞ্চলে ভৌমজলের কার্যের ফলে গঠিত ভূমিরূপগুলির বর্ণনা দাও।


কাস্ট অঞ্চলে গঠিত ক্ষয়জাত বা পৃষ্ঠিয় ভূমিরূপ

1. টেরারোসা :

লাল মৃদু ঢালযুক্ত চুনাপাথর অঞ্চলে কার্বনিক অ্যাসিড মিশ্রিত দ্রবণ কার্যের মাধ্যমে যে লাল বর্ণের আস্তরণ সৃষ্টি হয় তাকে টেরারোসা বলে।

বৈশিষ্ট্য :
1. এটি লৌহ যৌগ সমৃদ্ধ আম্লিক মৃত্তিকা।
2. এটি থেকে বক্সাইড, অ্যালুমিনিয়াম উৎপন্ন হয় 

উদাহরন :
ক্রান্তীয় বৃষ্টিবহুল ব্রাজিলের উচ্চভূমি।

2. ল্যাপিস বা কারেন :

অধিক ঢালযুক্ত (60° - 80°) চুনাপাথর যুক্ত অঞ্চলে দ্রবণ কার্যের ফলে যে অসংখ্য অগভীর সরল রৈখিক (20 মিটার) গর্ত বা খাঁজ সৃষ্টি হয় তাকে ফ্রান্সে ল্যাপিস এবং জার্মানিতে কারেন বলে।

শ্রেণীবিভাগ :
রিল্যান্ট কারেন - ক্ষুদ্র সরু ঘন খাঁজ বিশিষ্ট
রিনেন্ট কারেন - অপেক্ষাকৃত বড় খাঁজ বিশিষ্ট (10 মিটার)
ট্রিট কারেন - অত্যন্ত ক্ষুদ্র বিশিষ্ট ও সমতল বিশিষ্ট।

উদাহরন :

ভারতের বরাগুহালু রেল স্টেশন এলাকায় দেখা যায়।

3. গ্রাইক ও ক্লিন্ট :

চুনাপাথর যুক্ত অঞ্চলে দ্রবণ কার্যের ফলে শিলায় ফাটল বরাবর এক অংশ অপর অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে সমকোনে বিস্তৃত যে রৈখিক গভীর খাতের সৃষ্টি হয় তাকে গ্রাইক বলে।
গ্রাইকের মধ্যবর্তী সমতল শীর্ষদেশ যুক্ত আয়তকার উচু শিলাখন্ড গুলিকে ক্লিন্ট বলে।

বৈশিষ্ট্য :
1. গ্রাইক গুলির দৈর্ঘ্য 5 সেমি এবং গভীরতা কয়েক মিটার হয়।
2. বৃহতাকারে গ্রাইককে যুগস্লাভিয়ার বোগাচ বলে।
3. গ্রাইক ও ক্লিন্ট যুক্ত অঞ্চলকে পেপয়েন্ট বলে।
উদাহরন : মধ্যপ্রদেশের দুর্গ জেলায় দেখা যায়।

কাস্ট অঞ্চলে গঠিত অবনমিত ভূমিরূপ

1. সিঙ্কহোল :

চুনাপাথর গঠিত অঞ্চলে দ্রবণ কার্যের ফলে সৃষ্ট অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র গর্তকে সিঙ্কহোল বলে।

বৈশিষ্ট্য :
1. এর উপরিভাগ পাতলা স্তর দ্বারা আবৃত থাকে।
2. এগুলো ফানেল আকৃতির হয়।
3. এই ছিদ্রের মধ্য দিয়ে বৃষ্টির জল ভূগর্ভে প্রবেশ করে।
4. এগুলি কয়েক সেমি থেকে কয়েক মিটার গভীর হয়।

উদাহরন : ছত্রিশগড়ের রায়পুর জেলায় দেখা যায়।

2. সোয়ালো হোল:

চুনাপাথর অঞ্চলে দ্রবণ বা ধসের ফলে সিঙ্কহোল অপেক্ষা বড় গর্তকে সোয়ালো হোল বলে।

বৈশিষ্ট্য :
1. এগুলির মধ্য দিয়ে নদী ভূগর্ভে প্রবেশ করে।
2. এর গভীরতা কয়েক সেমি থেকে ৩০ মিটার হয়ে থাকে।
3. একাধিক সিঙ্কহোল যুক্ত হয়ে যৌগিক সোয়ালো হোল গঠন করে।

উদাহরন :

উত্তরাখণ্ডের দেরাদুনে অসংখ্য সোয়ালো হোল দেখা যায়।

3. পোনর :

সিঙ্কহোল বা সোয়ালো হোল থেকে ভূগর্ভস্থ গুহা পর্যন্ত যে উলম্ব খাড়া সুরঙ্গ পথের সৃষ্টি হয় তাকে পোনর বলে।

বৈশিষ্ট্য :
1. জলস্রোতের এর নিম্ন ক্ষয়ের মাধ্যমে এটি সৃষ্টি হয়।
2. ফ্রান্সে একে অ্যাভেন বলে।

উদাহরণ :
ইংল্যান্ডে গ্যাপিংঘিল নামক সোয়ালো হোলে 111 মিটার পোনর রয়েছে।

4. ডোলাইন:

না পাথর যুক্ত অঞ্চলে সিঙ্কহোল বা সোয়ানো হোল গুলি একত্রে মিলিত হয়ে যে বৃহদাকৃতির আবদ্ধ গর্ত সৃষ্টি করে তাকে সার্বিয়ান ভাষায় ডোলাইন বলে।

শ্রেণীবিভাগ :
দ্রবণ ডোলাইন
ভস ডোলাইন
অধগত ডোলাইন
ককপিট ডোলাইন

বৈশিষ্ট্য :
1. এগুলির ব্যাস ৫০ থেকে ১০০ মিটার এবং গভীরতা ২ থেকে ১০ মিটার হয়।
2. এগুলি দেখতে বৃত্তাকার বা উপবৃত্তাকার হয়।
3. এগুলি খাড়ায় খাঁজ বিশিষ্ট ফানেল আকৃতির হয়।

উদাহরন :
বোরাগুলাহু রেল স্টেশনের বিপরীত পথে দেখা যায়।

5. উভালা :

একাধিক সিঙ্কহোল বা ডোলাইন পরস্পর মিলিত হয়ে যে বিরাট গর্তে সৃষ্টি হয় তাকে উভালা বলে।

বৈশিষ্ট্য :
1. চুনা পাথরের ছাদ ধসে পড়ে এগুলি সৃষ্টি হয়।
2. এগুলি উপবৃত্তাকার বা অধিবৃত্তাকার আকৃতির হয়।

উদাহরন :
পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার কাস্ট অঞ্চলে দেখা যায়।

আরো অনুরূপ প্রশ্নাবলী :


Next Post Previous Post
×