Youtube Channel Subscribe us

একাদশ শ্রেণীর দর্শনের ভারতীয় দর্শন প্রথম অধ্যায় সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর


একাদশ শ্রেণী দর্শন প্রথম অধ্যায় ভারতীয় দর্শন | Class 11 Philosophy 1st Chapter Short Questions Answer PDF Notes

একাদশ শ্রেণী ভারতীয় দর্শন নোটস পিডিএফ, একাদশ শ্রেণী দর্শন প্রথম চ্যাপ্টার, একাদশ শ্রেণী ফিলোসফি প্রথম অধ্যায় প্রশ্ন উত্তর, একাদশ শ্রেণী দর্শন ছোট প্রশ্ন ও উত্তর, একাদশ শ্রেণী প্রথম অধ্যায় ভারতীয় দর্শন saq প্রশ্ন উত্তর


একাদশ শ্রেণী দর্শন প্রথম অধ্যায় ভারতীয় দর্শন ছোট প্রশ্ন উত্তর

1. ভারতীয় দর্শন কে প্রথাগত ভাবে কয়টি শ্রেণীতে ভাগ করা হয়েছে?

👉 দুইটি ভাবে ভাগ করা হয়েছে - আস্তিক ও নাস্তিক।
 
 2. ভারতীয় দর্শনে আস্তিক সম্প্রদায়গুলির নাম লেখ।
 
 👉 ভারতীয় আস্তিক সম্প্রদায়গুলি হল ন্যায়, বৈশেষিক, সাঙ্খ , যোগ , মিমাংসা ও বেদান্ত । এই ছয়টি আস্তিক দর্শনকে একত্রে ষড় দর্শন বলা হয়।

3. সাধারণ অর্থে আস্তিক কথাটির অর্থ কি?

 👉 সাধারণ মতে যারা ঈশ্বর আত্মা প্রভৃতি আধ্যাত্মিক বিষয় মেনে নেন তাদের আস্তিক বলা হয় ।

5. ভারতীয় মতে আস্তিক ও নাস্তিক শব্দ দুটির অর্থ নির্ধারণের ভিত্তি কি?

👉 ভারতীয় দর্শনে বেদ গ্রন্থটিকে প্রমাণের উপর ভিত্তি করে আস্তিক ও নাস্তিক শব্দ দুটি নির্ধারণ করা হয়েছে।
 
 6. ভারতীয় মতে আস্তিক কথাটির অর্থ কি?
 
👉  ভারতীয় মতে যে দর্শন সম্প্রদায় বেদকে প্রমান্য গ্রন্থ হিসেবে স্বীকার করে না তারা আস্তিক বলা হয়। 

যেমন : ষড় দর্শন।

7. ভারতীয় মতে নাস্তিক কথাটির অর্থ কি?

👉 যে সকল দর্শন সম্প্রদায়ের সমূহ বেদের প্রামাণ্য অস্বীকার করেন তাদের নাস্তিক বলা হয় ।
 যেমন চার্বাক যৌন বৌদ্ধ।

8. ধাতুগত অর্থের দর্শন বলতে কী বোঝো?

👉 দর্শন শব্দটির ধাতুগত অর্থ হল দেখা বা জানা বা চক্ষুষ প্রত্যাক্ষন।

9. সংস্কৃত দর্শন শব্দটির উৎস কি? 

👉 সংস্কৃত দৃশ ধাতু হয় থেকে দর্শন শব্দটি উৎপন্ন হয়েছে দৃশ + অনট =দর্শন

10. ভারতীয় মতে দর্শন কি?

👉 ভারতীয় মতে সত্যের সাক্ষাৎ উপলব্ধি হলো দর্শন।

 11. দর্শনের একটি সর্বজনীন সংজ্ঞা দাও।
 
👉 দর্শন হলো এমন এক শাস্ত্র যা জগৎ ও জীবন সম্বন্ধে সুসংগত ব্যাখ্যা দান করে।

 12. বেদ কয়টি ও কি কি?

👉 বেদ হলো চারটি ঋক, সাম, যজু,  অথর্ব।

13. বেদের অংশগুলি কি কি?

👉 বেদের চারটি অংশ হল হল মন্ত্র, সংহিতা, অরণ্যক ও উপনিষদ ।

14. বেদাঙ্গ কয়টি ও কি কি ?

👉 বেদাঙ্গ ছয়টি সেগুলি হল শিক্ষা, কল্প , নিরুক্ত ব্যাকরন, ছান্দোগ্য ও জ্যোতিষ।

15. পুরুষার্থ কি?
 
👉 মানুষের জীবনে নিয়ন্ত্রিত করার যে আচরণ বিধি সেই আচরণ বিধিগুলির উপলব্ধিকে পুরুষার্থ বলা হয় ।

 16. ভারতীয় দর্শনের কয়টি পুরুষার্থ স্বীকার করা হয়েছে ?

 👉 ভারতীয় দর্শনের চারটি পুরুষার্থ স্বীকার করা হয়েছে - ধর্ম , অর্থ , কাম্য,  মখ্য।

17. পুরুষার্থ রূপে ধর্ম কি ?

👉 ধাতুগত অথে যা ধারণ করে তাহাই হল ধর্ম ।অর্থাৎ স্মৃতি যার উপর নির্ভরশীল তাহাই হল ধর্ম ।ভারতীয় দর্শনের সম্প্রদায় গত অর্থের ধর্ম থাকলেও নৈতিক কর্ম সম্পাদন কে ধম বলা হয়।

18. পুরুষার্থ রুপে অর্থ কথাটির অর্থ কি? 

👉 ভারতীয় মতে বিদ্যাভূমি হিরণ্য প্রভৃতি অর্জন এবং অর্জিত বস্তুগুলির বিবর্ধন কে অর্থ বলা হয় । এক্ষেত্রে গৃহে সংসার ধর্ম পালনের জন্য সৎ ও ন্যায়ের পথে উপার্জিত বিষয় হল অর্থ।

 19. মোক্ষ্য কি ?
 
👉 জীবন যন্ত্রণা থেকে আত্মার আধ্যাত্মিক নির্মিতি বা মুক্তি হল মোক্ষ্য। যদিও বা মোক্ষ্যএর স্বরূপ ভারতীয় দর্শনে যথেষ্ট মতভেদ আছে।

20. চতুর্ভোগ কি?
 
👉 ধর্ম ,অর্থ ,কম ,মুখ্য চারটি পুরুষার্থকে একত্রে চতুর্ভোগ পুরুষার্থ বলা হয়।

21. তিবগ কি?

👉 ধর্ম অর্থ কাম্য এই তিনটি গৌন পুরুষার্থ একত্রে তীবগ বলা হয়।

23. প্রমা কি?

👉 প্র+মা=প্রমা। প্র অর্থে প্রকৃষ্ট বা যথার্থ এবং মা কথার অর্থ জ্ঞান। ভারতীয় মতে যথার্থ জ্ঞান কে বলা হয় প্রমা ।অর্থাৎ কোন বস্তু ঠিক যা, বস্তুটিকে সেই রূপে জেনে নেওয়া হলো প্রমা ।
উদাহরন: পুস্তককে পুস্তক রূপেই চিনতে পারা।

24. প্রমাতা কি?

👉 প্র অর্থে এক প্রকৃষ্ঠ এবং মাতা অথে জ্ঞাতা । ভারতীয় মতে যথার্থ জ্ঞানের কর্তাকে বলা হয় প্রমাতা।

যেমন: পুস্তকের জ্ঞান যে ব্যক্তি লাভ করতে চাইছেন তিনি হলেন প্রমাতা।

25. প্রমেয় কি?

👉 প্রমেয় কথার অর্থ হল জ্ঞাতো বস্তু। ভারতীয় মতে যে বস্তু বা বিষয় থেকে জ্ঞান লাভ করা হয় সম্ভব হয়, তাহাই হল প্রমেয়।
যেমন : পুস্তক ,চেয়ার , টেবিল প্রভৃতি।

26. প্রমাণ কি? 

👉 ভারতীয় মতে প্রমার কারণ হলো প্রমাণ অর্থাৎ যে প্রণালীর সাহায্যে যথার্থ জ্ঞান লাভ করা হয়, তাই হলো প্রমাণ।
যেমন: পুস্তকের জ্ঞান লাভের ক্ষেত্রে চক্ষু ইন্দ্রিয় হলো প্রমাণ। 

27. ভারতীয় মতে কাম কে কয় ভাগে ভাগ করা হয়েছে ও কি কি (ফল লাভের ভিত্তিতে)?

👉 দুই প্রকার

1.সকাম কাম
2. নিষ্কাম কাম 

28. কর্ম বাদের মূল বক্তব্য কি?

👉 কর্মবাদ অনুযায়ী প্রতিটি জীবনকেই সর্বদাই বিভিন্ন কর্মে লিপ্ত হতে হয় কর্মটি সমাক হলে তারপর জীবনেই করতে হয়।

29. নিষ্কাম কর্ম কাকে বলে?

👉 কামনা বাসনা হীন কর্মকে নিষ্কাম কর্ম বলা হয়। নিষ্কাম কর্মের ফল লাভের ব্যাপার থাকে না।

30. সকাম কর্ম কি?

👉 কামনা বাসনা যুক্ত কর্মকে সকাম কর্ম বলে । সকাম কর্ম ফল উৎপন্ন করে এবং এই কর্মের ফল জীবনকেই ভোগ করতে হয়।

31. মুখ্য লাভের উপায় হিসেবে কয়টি পথ বা মার্গের কথা বলা হয়েছে?
 
👉 তিনটি মার্গের কথা বলা হয়েছে কর্ম মার্গ, জ্ঞান মার্গ ,ভক্তি মার্গ।

 32. জন্মান্তরবাদ বা পুনর জন্মবাদ কি?

👉  স্বকাম কর্মে লিপ্ত জীবের পক্ষে ফল ভোগ এড়ানো সম্ভব নয় ।কর্মের ফল এই জীবনে ভোগ সম্ভব না হলে জীবনকে পুনরায় জন্মগ্রহণ করতে হয়। জীবের পুনরায় জন্মগ্রহণ করার প্রক্রিয়াকে জন্মান্তরবাদ বা পুনর্জন্ম বলা হয়।

33. আত্মবাদী দর্শন কি?

👉  যে দর্শন স্বাশত, চিরন্তর আত্মার অস্তিত্বে বিকাশ করেন তাদের আত্মবাদী বলা হয়।
যেমন: ষড় দর্শন ও জৈন্য দর্শন।

34. অনাক্ত বাদী কাকে বলা হয় ?

👉 যে দর্শন সম্প্রদায় আত্মার অস্তিত্ব শিকার করেও তারা শাশ্বত বলে মনে করেন না তাদের অনাক্ত বাদী বলা হয় ।
যেমন:  চার্বাক ও বৌদ্ধ দর্শন।

35. আধ্যাত্মবাদী দর্শন ক?

👉 যে দর্শন সম্প্রদায় মনে করেন জগতের জাগতিক বিষয় সমূহের উৎপত্তির মূলে হলো আধ্যাত্মিক চেতন শাস্ত্র সমূহ তারা আধ্যাত্মবাদী দর্শন নামে পরিচিত।
যেমন: ষড় দর্শন, বৌদ্ধ দর্শন,জৈন্য দর্শন।

 36, জড়বাদী কি ?

👉  যে দর্শন সম্প্রদায় মনে করেন জগতের জাগতিক বস্তু সমূহের সৃষ্টি হয়েছে জনসত্ত্বা থেকে তারা জড়বাদী দর্শন নামে পরিচিত।

37, ভারতীয় দর্শনের মুখ্য কে অপর কি নামে অভিহিত করা হয়েছে?

👉  মুখ্য কথাটি মুক্তি , কৈবল্ল, নিবান অপবর্গ, নিসশ্রেয় প্রভৃতি নামে অভিহিত করা হয়েছে।


Next Post Previous Post
×