Youtube Channel Subscribe us

১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দে বিদ্রোহের প্রতি শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণীর ভূমিকা কি ছিল লেখ।


১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দে বিদ্রোহের প্রতি শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণীর ভূমিকা কি ছিল লেখ।


ভূমিকা:

 উনিশ শতকের প্রথম ভাগে বাংলায় পাশ্চাত্য শিক্ষায় শিক্ষিত বাঙালিরা মধ্যবিত্ত সম্প্রদায় নামে পরিচিত। ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের বিদ্রোহে শিক্ষিত বাঙালি মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মনোভাব ও গতি প্রকৃতি কিরূপ ছিল তা নিম্নবর্ণিত।

ব্রিটিশ মানুষের প্রতি বিশ্বাস:

১৮৫৭ সালের বিদ্রোহের দিকে লক্ষ্য রেখে শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণি মনে করত ভারতে ব্রিটিশ শাসন কল্যাণকর। যে কারণে তারা ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিদ্রোহী অংশগ্রহণে বিরোধী ছিল।

সুশাসন অসম্ভব: 

এই বিদ্রোহে ভারতের সর্বোচ্চ স্তরের মানুষ সমর্থন করলেও শিক্ষিত বাঙালি মধ্যবিত্ত সমাজ সমর্থন করেনি। তাদের মধ্যে সন্দেহ দেখা দেয় যে এই বিদ্রোহের পর ভারতীয়রা জাতীয় রাষ্ট্রের সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হবে কিনা।

বিদ্রোহের প্রতি নিন্দা:

 সমকালীন শিক্ষিত বাঙালি মধ্যবিত্ত অক্ষয় কুমার দত্ত, কিশোরী চাঁদ মিত্র, হরিশচন্দ্র মুখার্জী, রাজনারায়ণ বসু, দুর্গাদাস বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখ এই বিদ্রোহের প্রতি নিন্দা করেছিলেন। এছাড়া Indian association, British India association এর ন্যায় রাজনৈতিক সংগঠন গুলি এই বিদ্রোহকে নিন্দা করে সরকারের প্রতি আস্থাশীল রয়েছে। এ নিয়ে এক সম্প্রতি পত্র বড়লাট লর্ড ক্যানিং এর কাছে জমা দেন।

যোদ্ধা জাতির সমর্থন:

 শিখ ,মারাঠা ,রাজপুত্র, গোখরা প্রভৃতি যোদ্ধা জাতি গুলি এই বিদ্রোহে ভারতীয়দের পক্ষে অংশ না নিয়ে ব্রিটিশদের পক্ষ নিয়েছিল এবং সরকারকে সহায়তা করেছিল।

জমিদার শ্রেণীর মনোভাব: 

উত্তরপাড়া, ভদ্রকালী, কোন নগর, প্রভৃতি অঞ্চলে ৪৭ জন জমিদার ও তালুকদার জয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব এক সভায় মিলিত হয়ে অকপটে ব্রিটিশ রাজশক্তির স্থায়িত্বের পক্ষে মত প্রকাশ করেন।

সরকারের প্রতি সংবাদপত্র:

 সংবাদ প্রভাকর, সংবাদ ভাস্কর, সংবাদ পূর্ণ চন্দ্রোদয় প্রভৃতি সংবাদপত্রগুলি এই বিদ্রোহ দমনে সরকারকে পূর্ণভাবে সমর্থন করেছিল।

মূল্যায়ন: নিম্নে বলা সঙ্গত হবে যে, ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দে বিদ্রোহের প্রতি শিক্ষিত বাঙালিরা ব্রিটিশ সরকারকে সমর্থন করেছিল তা স্পষ্ট। আবার সরকারের কর্মচারীরাও নিজেদের স্বার্থে এই বিদ্রোহকে সুনজরে দেখেনি।

আরো দেখুন :


Next Post Previous Post
×