ইতিহাসের উপাদান হিসেবে জীবনস্মৃতি গ্রন্থের বিবরণ দাও।

ইতিহাসের উপাদান হিসেবে “জীবনস্মৃতি "গ্রন্থের বিবরণ দাও।


ভূমিকা
রবীনাথ ঠাকুর তার আত্মজীবনী জীবনস্মৃতি নামকরণ করেছিলেন। জীবনস্মৃতি সমকালীন বাংলা সমাজ জীবন বঙ্গ, স্বদেশিকতা ও জাতীয়তাবাদ বিকাশের পাশাপাশি কবির ছোটবেলা থেকে পরিণত বয়স পর্যন্ত বিভিন্ন দিক গ্রন্থটিকে উল্লেখ রয়েছে।

প্রকাশকাল: 
আত্মজীবনীমূলক তার এই গ্রন্থ প্রবাসী পত্রিকায় প্রকাশিত হয় ১৩১৯ বঙ্গাব্দে (১৯১২ খ্রিস্টাব্দে) রামানন্দ চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত এই জীবন স্মৃতির ৮৮ টি পরিচয় দিয়েছিল স্বয়ংসম্পূর্ণ।

জীবনস্মৃতির বিষয়বস্তু:

(১) শিশু কালের স্মৃতি: 
জীবনস্মৃতি গ্রন্থ কবি ঠাকুরের বাল্যকালের স্মৃতি , শিশুকাল ওরিয়েন্টাল সেমিনারি, নর্মাল স্কুলের বর্ণনা, পিতা দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের সঙ্গে এমন বৃত্তান্ত প্রকৃতির ঘটনার বর্ণনা পাওয়া যায়।

(২) ঠাকুরবাড়ির অন্দরমহল: 
তার এই গ্রন্থে উল্লেখ রয়েছে ঠাকুরবাড়ির অন্দরমহলের বৃহৎ পরিবার, শিশুদের বাল্যকাল, নারী স্বাধীনতা ও ঘরোয়া পরিবেশ ইত্যাদি।

(৩) ধর্মীয় সংস্কৃতি:
 পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ছিলেন একজন ব্রাহ্মণ নেতা তিনি ব্রাহ্মধর্মের দীক্ষিত হন। তার এই রচনার মাধ্যমে গায়ত্রী মন্ত্র, ব্রম্ভ সংগীতের কথা এবং ব্রাহ্মধর্মের আন্তর সমালোচনার নানাদিক জানা যায়।

(৪) স্বদেশিকতা: 
তৎকালীন সময়ে অভিজাত পরিবার গুলি কিভাবে পাশ্চাত্য ভাবধারা জীবনযাপনের প্রতি অভ্যস্ত ছিল এবং শিক্ষা ও স্বদেশী প্রতি অনুরাগ কতখানি তার। তা এই গ্রন্থ থেকে জানা যায়।

(৫) কলিকাতার চিত্র:
 তার এই গ্রন্থ উল্লেখিত হয়েছে শহর কলিকাতার চাকচিক্য ও সৌখিনতার পাশাপাশি শহরতলীর ও পল্লী স্বভাবের চিত্রের বিবরণ।

 (৬) রাজনৈতিক দিক: 
তার জীবনস্মৃতি কথায় উঠে এসেছে হিন্দু জাতীয়তাবাদ বিকাশে নবগোপাল মিত্রের চৈত্র মেলা, যতীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও রাজনারায়ণ বসুর উদ্যোগে দেশবাসীকে রাজনৈতিক আন্দোলনে উদ্বুদ্ধ করতে প্রতিষ্ঠাতা স্বভাব ।

(৭) সংস্কৃতি চর্চা: 
তার এই গ্রন্থে উল্লেখিত রয়েছে তৎকালীন সময়ে ঠাকুরবাড়ির শিল্পচর্চা, সংগীত ও শারীরিক চর্চার কথা।

মূল্যায়ন
সুতরাং উপান্তে কোভিদ ভাষায় প্রতিধ্বনি করে বলি এই স্মৃতি ভান্ডার অত্যন্ত যথাযথভাবে ইতিহাস সংগ্রহের চেষ্টা ব্যর্থ হতে পারে কিন্তু যতটুকু পাওয়া যায় তা ইতিহাস রচনায় অমূল্য সম্পদ।

Read Also :
Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url